ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News

প্রচারণা, কূটনীতি ও চীনের চাপ: কঠিন সমীকরণে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

প্রচারণা, কূটনীতি ও চীনের চাপ: কঠিন সমীকরণে ট্রাম্প

ছবি: বিবিসি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিদেশ সফর বরাবরের মতোই জাঁকজমক, প্রচার এবং রাজনৈতিক বার্তায় ভরপুর। শক্তিশালী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ছবি তোলা এবং নিজেকে বৈশ্বিক দরকষাকষির কেন্দ্রে তুলে ধরতে তিনি সবসময়ই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে এবারের সফরের পেছনের বাস্তব রাজনৈতিক হিসাব অনেক বেশি জটিল।

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা দিচ্ছে। জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি সহজ নাও হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি বাজার এবং দৈনন্দিন পণ্যের দামে চাপ তৈরি করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটনের আশা, বেইজিং যদি তেহরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা নেয়, তাহলে বিশ্ববাজারেও কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।

তবে কূটনৈতিক বাস্তবতা ট্রাম্পের জন্য সহজ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, চীন কখনোই বিনা স্বার্থে এমন সহযোগিতায় যাবে না। এর বিনিময়ে বেইজিং তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নরম করার চেষ্টা করতে পারে।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ দাবি করে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতি সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান বেইজিংয়ের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ। যদিও হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, তাইওয়ান নীতিতে আপাতত কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই।

অন্যদিকে বাণিজ্য খাতে ট্রাম্প তুলনামূলক সহজ সাফল্য পেতে পারেন। গত শরতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া শুল্কবিরতির সমঝোতা অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চীনা বিরল খনিজ ও চুম্বকের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে চীনা বিনিয়োগ, বোয়িং–এর বিমান কেনা এবং আরও বেশি মার্কিন সয়াবিন আমদানির মতো প্রতিশ্রুতিও আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটারদের সন্তুষ্ট রাখতে এসব অর্থনৈতিক চুক্তি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: বিবিসি

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!