বিশ্বের দুই শীর্ষ অর্থনৈতিক ও সামরিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দুই নেতার মধ্যকার বৈঠক নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ দীর্ঘ হয়েছে। বেইজিংয়ে দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠককে এক শব্দে ‘চমৎকার’ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চীন সফরে আসা ট্রাম্পকে বুধবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বর্ণাঢ্য সামরিক অভ্যর্থনা জানানো হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লাল গালিচায় স্বাগত জানান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা প্রশমনে ট্রাম্পের এই দুই দিনের সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে পুরো বিশ্ব।
আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক শুরু হলেও তাইওয়ান ইস্যুতে শি জিনপিংয়ের অবস্থান ছিল বেশ কঠোর। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শি সতর্ক করে বলেছেন যে তাইওয়ান ইস্যুটি সঠিকভাবে সামলানো না হলে দুই দেশ সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি তাইওয়ানকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে স্বশাসিত দ্বীপটিতে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি হ্রাস করার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
শি’র মতে, তাইওয়ানের স্বাধীনতা ওই অঞ্চলে শান্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উচিত একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে ‘অংশীদার’ হিসেবে দেখা।
ট্রাম্পের এবারের সফরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল তার সফরসঙ্গীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে বেইজিং এসেছেন তিনি। এর মধ্যে ছিলেন টেসলার ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং অ্যাপলের টিম কুক।
বৈঠক শেষে ইলন মাস্ক সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এখানে “অনেক ভালো কাজ সম্পন্ন” করতে চান। এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াংও বৈঠকটিকে ‘অত্যন্ত ভালো’ বলে অভিহিত করেছেন। মূলত চীন যেন আরও বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের জন্য নিজেদের বাজার উন্মুক্ত করে দেয়, ট্রাম্পের এই সফরের সেটিই ছিল অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
বৈঠক শেষে দুই নেতা প্রাচীন ‘টেম্পল অব হেভেন’ পরিদর্শন করেন। সেখানে সাংবাদিকরা তাইওয়ান প্রসঙ্গে একাধিক প্রশ্ন করলেও ট্রাম্প সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “চীন খুব সুন্দর একটি জায়গা।” তবে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, শি জিনপিং একজন ‘মহান নেতা’ এবং তাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও শি’র এই বৈঠক এমন এক সময়ে হলো যখন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ থামাতে চীনের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সংঘাত সব মিলিয়ে এই সফর নতুন কোনো বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক সন্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :