যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পুনরায় শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে আপাতত ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনীতিকে আরও একটি সুযোগ দিতে চাইছেন।
এদিকে মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে টানা দুই রাত হামলা বন্ধ থাকায় ইরানও তাদের প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা স্থগিত রেখেছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখায় তারাও সামরিক অভিযান স্থগিত রেখেছেন।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনে ভিন্ন কারণ দেখছে দেশটির গণমাধ্যম। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে আসার কারণেই ট্রাম্প হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে, হামলা অব্যাহত থাকলে তা আরব মিত্রদেরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে। তবে রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এসব দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরঞ্জাম মার্কিন বাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট সব ধরনের বিকল্পই খোলা রেখেছেন।
চলমান এই সংকটের মূলে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া চল্লিশ দিনের যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছিল। জুনে একটি চুক্তির রূপরেখাও তৈরি হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে কোনো পক্ষই রাজি না হওয়ায় গত ১৩ই জুলাই থেকে পুনরায় পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়।
তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানি বাহিনীর হামলার জেরে মার্কিন বাহিনী নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে এবং ট্রাম্প নৌ-অবরোধ পুনর্বহাল করেন। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যাতে অন্তত চারজন মার্কিন সেনা নিহত হন এবং ইরানেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
উভয় পক্ষ এখন সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রাখায় কূটনৈতিক সমাধানের একটি নতুন সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সাথে তেহরানের কয়েক দফা কারিগরি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে যুদ্ধ অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা বা কৌশল নেই বলে মন্তব্য করেছে ইরান। এখন এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তি চুক্তির দিকে এগোবে, নাকি পুনরায় ভয়ংকর সংঘাতে রূপ নেবে, তার উত্তর লুকিয়ে আছে সামনের দিনগুলোর কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :