ঢাকা শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পরীক্ষা: ১৩৩ অধ্যাদেশ কি আইনে পরিণত হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পরীক্ষা: ১৩৩ অধ্যাদেশ কি আইনে পরিণত হবে?

বাংলাদেশের নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১২ মার্চ। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, এই অধিবেশনের প্রথম দিনই উত্থাপন করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারের ৫৫৯ দিনে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ। এসব অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে পরিণত করতে সংসদের হাতে সময় থাকবে মাত্র ৩০ কার্যদিবস।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। তবে সংসদের পরবর্তী প্রথম অধিবেশনেই সেগুলো উত্থাপন করতে হয়। ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত না হলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়াভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট। এর মধ্যে রয়েছে, জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও গুম-খুনের বিচারের বিশেষ বিধান। বিচার বিভাগের আলাদা সচিবালয় গঠন। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত সংশোধন। গণভোট পুনঃপ্রবর্তনের অধ্যাদেশ।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির সতর্ক করে বলেন, “ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যবিধি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে অনেক সংশোধন আনা হয়েছে। এগুলো যদি সংসদে অনুমোদন না পায়, তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আইনি সংকট তৈরি হতে পারে।”

অন্যদিকে, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করলেই যে সংসদ তা গ্রহণ করতে বাধ্য, এমন নয়। সংসদ স্বাধীনভাবে এগুলো যাচাই করে গ্রহণ বা বর্জন করতে পারে। তবে কোনো অধ্যাদেশ বাতিল হলে ওই সংক্রান্ত পূর্ববর্তী কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয় প্রতিটি অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিল আকারে সংসদে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে ‘জুলাই সনদ’ অধ্যাদেশ নয় বরং রাষ্ট্রপতির আদেশ হওয়ায় এটি সংসদে উত্থাপনের আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

সংসদ যদি কোনো অধ্যাদেশ বাতিল করে দেয়, সরকার চাইলে পরবর্তীতে সেই বিষয়ে নতুন করে বিল এনে আইন প্রণয়ন করার সুযোগ পাবে। তবে আগামী ৩০ দিন বাংলাদেশের আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!