পারস্য উপসাগরে ইরাকি জলসীমার ভেতরে দুটি বিদেশি তেল ট্যাংকারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। পানির নিচ দিয়ে চালিত ড্রোন (আন্ডারওয়াটার ড্রোন) ব্যবহার করে চালানো এই জোড়া হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে ইরান। এই ঘটনায় একজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন এবং জাহাজ দুটি থেকে ৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
ইরাকের তেল বিপণন সংস্থা সোমো জানিয়েছে, ইরাকি জলসীমার সাইডলোডিং এলাকায় অবস্থানকালে জাহাজ দুটিতে আকস্মিক আক্রমণ চালানো হয়।
আক্রান্ত জাহাজ দুটি হলো, জেফাইরোস, মাল্টার পতাকাবাহী এই জাহাজটির মালিক গ্রিসের একটি প্রতিষ্ঠান। এটি বসরা গ্যাস কোম্পানির জন্য কনডেনসেট বহন করছিল।
সেফসি বিষ্ণু, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এই জাহাজটির মালিক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ‘সেফসি ট্রান্সপোর্ট ইনকর্পোরেটেড’।
ইরাকের বন্দর কোম্পানির মহাপরিচালক ফারহান আল-ফারতুসি সিএনএনকে জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ৩৮ জন ক্রু সদস্যই বিদেশি নাগরিক। হামলার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে ইরাকের তেল বন্দরগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলাটি পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন ব্যবহার করে চালানো হয়েছে এবং ইরান এর পেছনে রয়েছে। অন্যদিকে, ইরাকের নিরাপত্তা সূত্রগুলো প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরক ভর্তি ইরানি নৌকার ব্যবহারের কথা সন্দেহ করলেও পরবর্তীতে আন্ডারওয়াটার ড্রোনের বিষয়টি সামনে আসে।
ইরাকি জলসীমার ভেতরে এই হামলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাগদাদ। ইরাকের যৌথ অপারেশন কমান্ডের মিডিয়া প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান এই ঘটনাকে ‘ইরাকি সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই হামলার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার ইরাক সংরক্ষণ করে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে তেল ট্যাংকারে এই সরাসরি হামলা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইরাকের তেল বন্দরগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন আরও চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন, আইআরআইবি


আপনার মতামত লিখুন :