সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। আজ বেলা ১১টায় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক অধিবেশন শুরু হবে। গত জুলাইয়ের গণ-আন্দোলন ও পরবর্তী নির্বাচনের পর এই সংসদকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী।
অধিবেশনের প্রথম দিনের প্রধান আকর্ষণ হলো নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, অধিবেশনের শুরুতেই সংসদ সদস্যরা তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার ও একজনকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করবেন।
সাধারণত ক্ষমতাসীন দল থেকেই এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য প্রার্থী দেওয়া হয়। তবে এবার রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় গুঞ্জন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক নজিরবিহীন ‘উদারতা’ দেখিয়ে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘ডেপুটি স্পিকার’ পদের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
গতকাল বুধবার (১১ মার্চ) সরকারি দল বিএনপি এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী পৃথক পৃথক সংসদীয় দলের বৈঠক করেছে। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাঁরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা সংসদ চলাকালেই পরিষ্কার হবে।
অন্যদিকে, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও এখনো কোনো ‘পজিটিভ রেসপন্স’ পাওয়া যায়নি।
যদি জামায়াতে ইসলামী এই প্রস্তাব গ্রহণ করে, তবে বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। আর যদি তারা রাজি না হয়, তবে ক্ষমতাসীন দল থেকেই উভয় পদে নাম ঘোষণা করা হবে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনের অধিবেশনে নিম্নোক্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হতে পারে: নবনির্বাচিত স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন পরিচালনা। রাষ্ট্রপতির ভাষণ (প্রথা অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন)। শোক প্রস্তাব গ্রহণ। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংসদ আগের যেকোনো সংসদের তুলনায় ভিন্ন হবে। ‘জুলাই সনদ’ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, তার প্রতিফলন এই অধিবেশনে দেখা যেতে পারে। সংসদকে প্রাণবন্ত করতে এবং কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে ও বাইরে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। নতুন সংসদ সদস্যদের বরণ করে নিতে সংসদ সচিবালয় যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
দেশের সাধারণ মানুষ গভীর আগ্রহে আজ টেলিভিশন ও গণমাধ্যমের দিকে তাকিয়ে আছেন কারা হচ্ছেন নতুন সংসদের অভিভাবক এবং বিরোধী দল সংসদকে কতটা কার্যকর করে তুলতে পারে, তা দেখার জন্য।


আপনার মতামত লিখুন :