ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আবেগঘন ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশনের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এবারই প্রথমবারের মতো তিনি বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন। তিনি বলেন, “আমি একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখন পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি এ দেশের জনগণের প্রতিনিধি। আমার রাজনীতি ব্যক্তিস্বার্থের নয়, বরং দেশ ও জনগণের স্বার্থের রাজনীতি।”
বিএনপির লক্ষ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মধ্য দিয়ে বিএনপি একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।” এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি সরকারি ও বিরোধী দল উভয় পক্ষের সদস্যদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
বিরোধী দলের রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, “বিরোধী দলের সাথে আমাদের মতামত ও কর্মসূচির ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু তাঁবেদারমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মাঝে কোনো বিরোধ নেই।”
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মা ও বিএনপির প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এছাড়াও তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অকুতোভয় জনসাধারণ এবং এই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে বিদায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা অনুপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “বিগত সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে বাংলাদেশে যে জনরোষ তৈরি হয়েছে, তারপর আর তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।”
বিদায়ী স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তিনি প্রবীণ বিএনপি নেতা ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার আহ্বান জানিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :