রাজধানীর তেজগাঁও লিংক রোড এলাকায় বকেয়া বেতন ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নাসা গ্রুপের কয়েকশ পোশাক শ্রমিক। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে মহাখালী-নাবিস্কোর মাঝামাঝি এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এর ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। তবে এক ঘণ্টা পর শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দিলে বেলা ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, তাঁদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করেই এবং কোনো পূর্ব আলোচনা ছাড়াই কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। এ সময় তাঁরা অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধ এবং চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। আনুমানিক ৭০০ থেকে ৮০০ শ্রমিক এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, শ্রমিকরা দাবির মুখে সড়কে অবস্থান নিলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁরা বেলা ১১টার দিকে সড়ক ছেড়ে দিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান নেন। বর্তমানে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
অবরোধ চলাকালীন ঢাকা মহানগরীর গুলশান জোনের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে বিকল্প পথ বা ডাইভারশন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল: উত্তরা-মহাখালী রুট, যারা এই রুটে চলাচল করবেন, তাঁরা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।
গুলশান/বনানী থেকে তেজগাঁও: মহাখালী ফ্লাইওভার ব্যবহার করে তেজগাঁওয়ের দিকে যাতায়াত করা যাবে। বিকল্প রুট: কাকলী বামে মোড় থেকে কামাল আতাতুর্ক সড়ক হয়ে গুলশান-২ ও নতুন বাজার অথবা গুলশান-১ হয়ে রামপুরা ও হাতিরঝিল পথে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়।
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে এই আকস্মিক অবরোধের কারণে অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ বাস ও অন্যান্য যানবাহন আটকে থাকায় অনেককে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়। তবে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :