কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা (হোস্ট কমিউনিটি) জনগোষ্ঠীর জন্য ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা) আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আগামী ২০শে জুন ‘বিশ্ব শরণার্থী দিবস’। এই বিশেষ দিনটির ঠিক দুদিন আগে ইইউ-এর পক্ষ থেকে এমন বড় ধরনের সহায়তার ঘোষণা এলো।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই নতুন অর্থায়ন বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, ক্ষমতায়ন ও জরুরি সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে চলমান ২৩ মিলিয়ন (২ কোটি ৩০ লাখ) ইউরোর একটি বহুবছর মেয়াদী (২০২৪-২০২৭) চুক্তির অংশ। এই অর্থ দিয়ে রোহিঙ্গাদের জরুরি মানবিক সহায়তা, আইনি সুরক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করা হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, "বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের দেখভাল করা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় থাকবে।"
অন্যদিকে, বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন এই অনুদানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এই অর্থায়ন রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে তাদের প্রয়োজনীয় আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা সেবা পাওয়া, দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের আশা বাঁচিয়ে রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করবে।”
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা সংকটের মাঝে বৈশ্বিক এই অর্থ সহায়তা শরণার্থী শিবিরগুলোর মানবিক বিপর্যয় রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :