ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
Daily Global News

সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে সংসদে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে সংসদে বিতর্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আজ রোববার (২১ জুন) সংসদ অধিবেশনে তীব্র উত্তেজনা ও বাগ্‌বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ক্ষুব্ধ হয়ে হান্নান মাসউদকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

রোববার সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এখানে নেই। কিন্তু উনি যখন বিভিন্ন ভাষণে গিয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে বলেন বিরোধী দল মিছিল করতেছে মদের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বা সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করার কারণে এমন অসত্য তথ্য দিয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন, আমরা খুবই আশাহত হই।”

ব্যাংক খাত ও ঋণ খেলাপিদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “যখন ঋণ নিয়ে আমরা সংসদে কথা বলতে যাই, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কথা বলতে যাই, তখন প্রধানমন্ত্রী যদি বলেন আপনারা সবাই জমিদার যারা ঋণ নেন নাই এর মধ্য দিয়ে মূলত প্রধানমন্ত্রী ঋণ খেলাপিদের উৎসাহিত করেন।”

হান্নান মাসউদের এই বক্তব্যের পরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে হান্নান মাসউদ সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এ সময় তিনি ওই আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহারের (এক্সপাঞ্জ) জোর দাবি জানান।

ফারুকের এই দাবির পরপরই ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি হান্নান মাসউদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, “এখানে সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক দাঁড়িয়ে বলেছেন হান্নান মাসউদ ভুল তথ্য দিয়েছে। কিন্তু কোন তথ্যটা ভুল ছিল, সেটা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।”

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করার অধিকার বিরোধীদের আছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা দেখেছি প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে ‘স্লিপ অব টাং’ বা অসাবধানতাবশত ভুল বলেছেন, পরে সেটা তিনিই শুধরেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সম্মান করি, এর মানে এই না যে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করা যাবে না।”

চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্যের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সরাসরি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হান্নান মাসউদের বক্তব্যের আপত্তিকর অংশটুকু সংসদ কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করার অনুরোধ জানান।

মির্জা ফখরুল শক্ত কণ্ঠে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, সংসদ নেতাকে নিয়ে এমন অসত্য ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য এই পবিত্র সংসদে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।”

মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যের সময়ই সংসদ কক্ষে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ও হট্টগোল তৈরি হয়। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার রুলিং দেন। উত্তেজনার মধ্যেই হান্নান মাসউদ আবারও দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে ডেপুটি স্পিকার তাকে শক্তভাবে থামিয়ে দেন।

সংসদ সদস্য মাসউদের উদ্দেশ্যে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যখন খুশি দাঁড়িয়ে যাবেন, এটা সংসদের রীতি বা রেওয়াজ না। আপনি আসন গ্রহণ করুন। হান্নান মাসউদ, মনে রাখবেন এটা শাহবাগ চত্বর নয়, এটা স্বাধীন বাংলাদেশের পবিত্র জাতীয় সংসদ!”

ডেপুটি স্পিকারের এই রুলিংয়ের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

জামায়াত আমির বলেন, “হান্নান মাসউদ বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ নেতার বিষয়ে কিছু কথা বলেছেন। আমি আপনাকে (স্পিকার) অনুরোধ করব, বাইরের কোনো রাজনৈতিক বক্তব্যকে টেনে এনে এখানে পরিবেশ নষ্ট করা বা কাদা ছোড়াছুড়ি যেন এলাও না করা হয়।”

বিতর্কিত অংশটি বাদ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “এটা সত্য না ওটা অসত্য এই ঝগড়ায় যদি আমরা এখন যাই, তবে তা আমাদের সবার জন্যই অত্যন্ত লজ্জাজনক হয়ে যাবে। আমি চাচ্ছি না কারো সম্মানের সাথে এই লজ্জাটা লেগে থাকুক। আমি অনুরোধ করব, এই বিষয়ের পুরাটাই আপনি এখান থেকে ইগনোর (উপেক্ষা) করুন, সেটাই হবে সবার জন্য কল্যাণকর।”

বিরোধীদলীয় নেতার এই পরিপক্ক বক্তব্যের পর স্পিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং পরবর্তীতে এই সংবেদনশীল ইস্যুটি নিয়ে সংসদে আর কোনো আলোচনা বা বিতর্ক করতে দেওয়া হয়নি।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!