ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

মন্ত্রী থাকছেন না মেয়র হচ্ছেন? ইশরাক হোসেনের ঘোষণায় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

মন্ত্রী থাকছেন না মেয়র হচ্ছেন? ইশরাক হোসেনের ঘোষণায় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সবেমাত্র মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই এক আকস্মিক ঘোষণায় তিনি জানালেন, আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সোমবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ঢাকা দক্ষিণ থেকে সিটি নির্বাচন করব ইনশাল্লাহ”।

ইশরাক হোসেনের এই ঘোষণা এমন এক সময় এলো, যখন সরকার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। যদিও এদিন সকালেই বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রশাসক বসানো হলেও নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনও (ইসি) ইঙ্গিত দিয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপরই ভোট হতে পারে।

ইশরাক হোসেনের মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। ২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হন। সেই সময় নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আত্মগোপনে গেলে মেয়রের পদগুলো শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে আদালতের রায়ে ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছিল ইসি। তবে আইনি জটিলতায় সে সময় নগর ভবনে বসতে পারেননি তিনি। এই নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং আন্দোলন কর্মসূচিও পালন করেছিলেন তিনি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।

একজন সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ইশরাক হোসেন কেন পুনরায় সিটি নির্বাচনের ঝুঁকি নিচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। তৃণমূলের কর্মীদের মতে, ঢাকার উন্নয়ন ও নগরবাসীর সরাসরি সেবা করার আগ্রহ থেকেই তিনি মেয়রের চেয়ারকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!