সংবিধান সংস্কারে গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এবার রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে সংসদের বাইরে থাকা ১১ দলীয় জোট। আগামী শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও বিশাল মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন এই জোট।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর এক মিলনায়তনে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিন সংবিধানের ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, জনগণের এই রায় অবিলম্বে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গত রোববার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এ বিষয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। মঙ্গলবার এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় পরদিন সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী সদস্যরা।
বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, “জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার সংবিধান সংস্কারে গড়িমসি করছে। আমরা সংসদের ভেতর ও বাইরে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আমাদের দাবি জানিয়ে আসছি। শনিবারের সমাবেশ হবে সরকারের প্রতি আমাদের চূড়ান্ত সতর্কবাণী।”
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: আখতার হোসেন, সদস্যসচিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ড. আহমদ আবদুল কাদের, মহাসচিব, খেলাফত মজলিস। মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, যুগ্ম-মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। রাশেদ প্রধান, মুখপাত্র, জাগপা। মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ লেবার পার্টি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দেশে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে প্রধান বিরোধী জোটের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি সব মিলিয়ে আগামী শনিবার রাজধানী ঢাকার রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াবে। বিশেষ করে বায়তুল মোকাররম এলাকায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি নিচ্ছে জোটের শরিক দলগুলো।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :