ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News
নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় ছাত্রদল

তারেক রহমানের অনুমোদনের পর যেকোনো মুহূর্তে কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

তারেক রহমানের অনুমোদনের পর যেকোনো মুহূর্তে কমিটি ঘোষণা

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতাদের বিদায়ী সাক্ষাৎ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের আবেগঘন বার্তার পর নতুন কমিটি ঘোষণার বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটির একটি খসড়া তালিকা ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তার চূড়ান্ত অনুমোদনের পরপরই যেকোনো সময় নতুন এই কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ছাত্রদলের বর্তমান শীর্ষ পাঁচ নেতার একটি বিদায়ী সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ছাত্রদলের বিদায়ী সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়ে নিজেদের দায়িত্বের সমাপ্তি টানার ইঙ্গিত দেন।

রাকিব তার বার্তায় লেখেন, ‘অনেক বেশি সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে।’ অন্যদিকে নাছির লেখেন, ‘আজ দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু ছাত্রদল থেকে নয়। পদ থেকে বিদায় নেওয়া গেলেও আদর্শ ও সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়া যায় না।’

দলীয় সূত্র জানায়, ওই সাক্ষাতে তারেক রহমান বিগত বছরগুলোতে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান নেতাদের সংগঠনের পরবর্তী ধাপে অর্থাৎ মূল দলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে ছাত্রদলে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তুলে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছরের মেয়াদ শেষে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। সম্ভাব্য এই নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন, কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান।

এর বাইরেও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিক, যুগ্ম সম্পাদক রিয়াদ রহমান, তরিকুল ইসলাম তারিক, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফসহ বেশ কয়েকজন নেতার নাম রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে। পদপ্রত্যাশী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চাইছেন, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতারাই যেন সংগঠনের শীর্ষ দায়িত্বে আসেন।

ছাত্রদলের আগামী দিনের নেতৃত্বকে কেবল রাজনৈতিক আন্দোলনে সীমাবদ্ধ না রেখে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, কল্যাণ, নিরাপত্তা ও অধিকার আদায়ে কাজ করার জন্য একটি আধুনিক ও কার্যকর ছাত্রসংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন নেতাকর্মীরা। তবে শীর্ষ পদ দুটিতে শেষ পর্যন্ত কারা আসছেন, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে দলের হাইকমান্ড তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর।

এদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে তার কাছে এখনো দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসেনি। ফলে শেষ মুহূর্তে আলোচনার বাইরে থাকা কোনো নেতাও শীর্ষ নেতৃত্বে চলে আসতে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন।

সব মিলিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আগামী দিনের হাল কে ধরবেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম কৌতূহল ও জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে, যার অবসান ঘটবে কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!