ভালো জীবনের আশায় ইউরোপমুখী হওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে বিপদে পড়ছেন বহু বাংলাদেশি তরুণ। দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছেন, কেউ আবার এক দেশ থেকে আরেক দেশে পাচার হয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন ইতালিতে।
প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রে জানা গেছে, অনেকেই বৈধ ভিসা ও কাগজপত্র ছাড়াই দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নামছেন। লিবিয়া বা তিউনিসিয়ার মতো দেশ হয়ে নৌকায় করে ইতালি পৌঁছানোর চেষ্টা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পথে দুর্ঘটনা, প্রতারণা এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশ করলে শুধু জীবনের ঝুঁকিই নয়, সেখানে পৌঁছানোর পরও শুরু হয় নতুন সংকট। বৈধ কাগজ না থাকায় অনেক বাংলাদেশি শ্রম শোষণের শিকার হচ্ছেন। কম মজুরি, অমানবিক কাজের পরিবেশ এবং পুলিশি অভিযানের ভয়ে আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে অনেককে।
ইতালির অভিবাসন আইনে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের আটক ও ফেরত পাঠানোর বিধান রয়েছে। ফলে বহু বাংলাদেশি দীর্ঘদিন আটক কেন্দ্রে থাকার পর দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপেও পড়ছে।
প্রবাসী কল্যাণ বিশ্লেষকদের মতে, দেশে কাজের সুযোগ সীমিত হওয়া, দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশ্বাস এবং দালালদের মিথ্যা প্রলোভনই তরুণদের এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে। তারা বলছেন, সচেতনতা বাড়ানো এবং বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণই পারে এই সংকট কমাতে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ইউরোপে যাওয়ার আগে অবশ্যই বৈধ ভিসা, কাজের চুক্তি ও সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। অবৈধ পথ স্বপ্ন পূরণের শর্টকাট মনে হলেও বাস্তবে তা বহু ক্ষেত্রে দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে।
সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বারবার সতর্কতা জারি করলেও উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার প্রবণতা কমছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দালালদের প্রলোভন এবং দ্রুত সফল হওয়ার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে ঝুঁকি নিতে পিছু হটতে দিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি, যাতে তরুণরা অবৈধ পথে গিয়ে জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে। একই সঙ্গে দেশের ভেতরে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা গেলে মানুষকে জীবনবাজি রেখে অনিশ্চিত যাত্রায় নামতে হতো না—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :