যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্যের এক করুণ ও ভয়াবহ সমাপ্তি ঘটেছে। নিখোঁজের ১০ দিন পর লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার হলেও নাহিদা বৃষ্টি এখনো নিখোঁজ। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ও তাদের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়েহর গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্য।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ান-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যা করা ছিল হিশামের একটি ‘কোল্ড-ব্লাডেড’ বা পূর্বপরিকল্পিত মিশন। ঘাতক হিশাম আবুঘারবিয়েহ ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সে ম্যানেজমেন্টে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করেছিল। কিন্তু এরপরই সে অপরাধ জগতে পা বাড়ায়।
বিপজ্জনক অতীত: ২০২৩ সালেই হিশামের বিরুদ্ধে মারধর ও চুরির মামলা হয়েছিল। এমনকি নিজের মা ও ভাইয়ের ওপর শারীরিক আক্রমণের দায়ে আদালত তাকে নিজ পরিবার থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
গত ১৭ এপ্রিল যখন লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হন, তখন পুলিশ হিশামকে জেরা করলে সে ‘মুখে কুলুপ’ আঁটে। এতে গোয়েন্দাদের সন্দেহ আরও বাড়ে। পুলিশ যখন তার বাড়িতে তল্লাশিতে যায়, হিশাম নিজেকে ঘরের ভেতর ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখে। এক পর্যায়ে সোয়াট টিম, ড্রোন, রোবট এবং বিশেষ ট্যাকটিক্যাল টিমের সহায়তায় তাকে নাটকীয়ভাবে আটক করা হয়।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর থেকে জামিল লিমনের মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই আবিষ্কারের পর হিশামের বিরুদ্ধে লিমনের মরদেহ সরানো, তথ্য গোপন ও প্রমাণ নষ্ট করার পাশাপাশি ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’ বা পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, ২৬ বছর বয়সী কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির সন্ধান এখনো মেলেনি। পুলিশ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করছে তাকেও হত্যা করা হয়েছে, তবে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। লিমনের মরদেহ উদ্ধারের খবর শোনার পর থেকে নাহিদার জীবিত ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে, যা প্রবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রবাসী কমিউনিটিতে শোকের ছায়া: ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা জানিয়েছেন, দূতাবাস সার্বক্ষণিক স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর এমন পরিণতিতে ফ্লোরিডাসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুততম সময়ে ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :