বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে দেশের মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি অর্জন করতে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন কঠোর মুদ্রানীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করছে, যার লক্ষ্য হলো দামমান নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো।
এ বিষয়ে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রানীতি, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। বৈঠকটি রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস, অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনা উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমছে। মার্চ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮.২৯% রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এই নিয়ন্ত্রণে আমদানি ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও কঠোর মুদ্রানীতির ভূমিকা রয়েছে। একইসঙ্গে ১২-মাস গড় মূল্যস্ফীতিও নভেম্বর ২০২৫-এ প্রথমবারের মতো ৯% এর নিচে নেমেছে, যা গত দুই বছরে আগে দেখা যায়নি।
সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি স্বভাবতই কোনো এক ফাঁকেই একমাত্র সংখ্যা নয়; এটি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সরকারি বক্তব্য ও বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি কমানোর পেছনে কিছু বড় কারণ হলো— কঠোর মুদ্রানীতি, যার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হার উচ্চ অবস্থায় রেখে বাজারে অতিরিক্ত টাকা প্রবাহ প্রতিরোধ করছে; খাবারের উৎপাদন ও আমদানির স্থিতিশীলতা, যার ফলে আঞ্চলিক খাদ্যসুরক্ষা ও কৃষি উৎপাদন সমন্বয় বজায় আছে; প্রবাসী অর্থের রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, যা বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমিয়েছে; এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বৃদ্ধি, যা রিজার্ভ আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে মুদ্রা ব্যবস্থাপনাকে সহায়তা করছে।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা উচ্চ ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে কমে আসছে। অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নীতি প্রয়োগ, বাজার-জাগ্রত কৌশল এবং মুদ্রানীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করলে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭% বা তার নিচে নামানো সম্ভব হবে। এটি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং জীবনযাত্রার মানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
ডিজিএন


আপনার মতামত লিখুন :