যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার মেজর লিগ সকার চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মায়ামির খেলোয়াড়দের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। হোয়াইট হাউজে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসিসহ দলের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
তবে খেলাধুলার এই আয়োজন ছাপিয়ে মূল আলোচনায় উঠে আসে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু এবং ইরানের বর্তমান সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের করা মন্তব্য।
অনুষ্ঠানে ড্রিলস ও ফুটবলের আলোচনার ফাঁকেই ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আপডেট দিতে শুরু করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রতি মুহূর্তে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ওপর নজর রাখছে এবং সেগুলোকে ধ্বংস করছে।
উপহাসের সুরে ট্রাম্প বলেন, “তাদের (ইরান) এখন কোনো বিমান বাহিনী নেই, কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। তাদের সব বিমান এখন ধ্বংসস্তূপ, যোগাযোগ ব্যবস্থাও অকার্যকর। এগুলো ছাড়াই তারা আপাতত ভালোই করছে।” তার এমন বক্তব্যে উপস্থিত অনেকের মধ্যে হাস্যরস ও করতালির সৃষ্টি হয়।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। তার দাবি অনুযায়ী, সামরিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো ‘নির্ধারিত সময়সূচির অনেক আগেই’ সম্পূর্ণ ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে। ইরানি সরকারের ‘৪৭ বছরের ভয়াবহতা’র কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই শাসনব্যবস্থা সাধারণ ইরানিদের চরম ক্ষতি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামের অস্থিরতা নিয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, তার কাছে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে দাম কিছুটা বাড়লেও তিনি তা কমিয়ে আনার আশ্বাস দেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “দাম আগে আরও কম ছিল, কিন্তু যুদ্ধের কারণে আমাকে সামান্য পথবদল করতে হয়েছে।”
লিওনেল মেসিসহ ইন্টার মায়ামির সদস্যরা প্রেসিডেন্টের আতিথেয়তা গ্রহণ করলেও রাজনৈতিক আলোচনার সময় তাদের বেশ শান্ত থাকতে দেখা যায়। মূলত ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবেই তিনি এই ক্রীড়া অনুষ্ঠানকে বর্তমান সামরিক সফলতার প্রচারণার মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


আপনার মতামত লিখুন :