ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে যে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, আজ বুধবার (১১ মার্চ) সকালে এশীয় বাজারে তা কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরেছে। সপ্তাহের শুরুতে তেলের দাম আকাশচুম্বী হলেও বর্তমানে তা কিছুটা নিম্নমুখী।
বুধবার সকালে এশীয় বাজারে লেনদেনের সময় দেখা গেছে: ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট, যুক্তরাষ্ট্রের এই অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৮৩.৩৫ ডলার। ব্রেন্ট ক্রুড, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮৭.৮৮ ডলার।
উল্লেখ্য যে, গত সোমবার তেলের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছিল। যুদ্ধের আশঙ্কায় ওইদিন প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলারে উঠে গিয়েছিল। সেই তুলনায় আজকের দাম অনেকটা কমলেও, যুদ্ধ শুরুর আগের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখনো তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে।
তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো বর্তমানে তাদের জরুরি ‘তেল মজুত’ বাজারে ছাড়ার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। যদিও এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে এমন আলোচনার খবরেই বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা থমকে গেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই সামান্য পতন আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য সাময়িক স্বস্তির খবর। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি বা ইরানের তেলক্ষেত্রগুলোর ওপর সরাসরি কোনো হামলার ঘটনা ঘটলে এই দাম আবারও ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আপাতত বিনিয়োগকারীরা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।


আপনার মতামত লিখুন :