মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ে যখন চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের অভ্যন্তরীণ মজুত স্বাভাবিক রাখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের জোগান যে কোনো সময় বিঘ্নিত হতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই মজুত নিশ্চিত করা হচ্ছে। উন্মুক্ত দরপত্রের দীর্ঘ প্রক্রিয়া পরিহার করে দ্রুততম সময়ে তেল সংগ্রহের লক্ষ্যেই ‘সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি’ বেছে নিয়েছে সরকার।
অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ডিজেল আমদানিতেও বেশ কিছু বড় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি: ইন্দোনেশিয়ার পিটি ভুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি জাপিন) থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস অয়েল বা ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কাজাখস্তান থেকে ডিজেল: এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকরপোরেটেড (ইএমকেআই) থেকে আরও এক লাখ মেট্রিক টন উচ্চমানসম্পন্ন (সালফার মানমাত্রা ১০ পিপিএম) ডিজেল আমদানির প্রস্তাবও সবুজ সংকেত পেয়েছে।
বৈঠকে হংকংয়ের ফালকো করপোরেশন থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল এবং আর্চার এনার্জি ও ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে ডিজেল কেনার তিনটি আলাদা প্রস্তাব আনা হলেও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুরোধে সেগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, আরও লাভজনক ও নির্ভরযোগ্য উৎসের সন্ধানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজ সকালেই সরকার এপ্রিল মাসে তেলের দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এখন সরাসরি পদ্ধতিতে এই বিপুল পরিমাণ তেল ও ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, সরকার যে কোনো মূল্যে অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :