ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News

হরমুজ প্রণালিতে আটকেপড়া ৬ বাংলাদেশি জাহাজ ছাড়ছে ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে আটকেপড়া ৬ বাংলাদেশি জাহাজ ছাড়ছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনার মাঝেও বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে তেহরান। গত এক মাস ধরে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালিতে আটকেপড়া বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তেহরানে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, “ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল এই জাহাজগুলোকে পার হওয়ার অনুমতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। গত সপ্তাহে আমরা জাহাজগুলোর বিস্তারিত তথ্য (স্পেসিফিকেশন) হাতে পেয়েছি এবং সেগুলো শনাক্ত করে নিরাপদ যাত্রার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

বাংলাদেশে চলমান জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, “এখানকার পেট্রোল পাম্পগুলোতে মানুষের দীর্ঘ লাইনের সচিত্র প্রতিবেদন আমরা তেহরানে পাঠিয়েছি। আমরা বলেছি, আমাদের ভাই ও বন্ধুরা সমস্যায় আছে। মুসলিম উম্মাহর সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ কষ্ট পাক, তা আমরা চাই না। জাহাজগুলো নিরাপদে পৌঁছাতে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইরানে আটকেপড়া ১৮০ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের অনেকের কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা না থাকলেও মানবিক কারণে কোনো হয়রানি বা বড় জরিমানা ছাড়াই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের নিয়মে বড় পরিবর্তন আসবে বলে সতর্ক করেছেন জলিল রহীমি। তিনি বলেন, “ইনাসেন্ট প্যাসেজ বা ‘নির্দোষ চলাচল’ নিয়ম অনুসারে এখন থেকে ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না। আমাদের সংসদ ও সরকার এ বিষয়ে কঠোর আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নিচ্ছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া ১৫টি শর্ত সংবলিত প্রস্তাবের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমেরিকা যুদ্ধের মাধ্যমে যা অর্জন করতে পারেনি, এখন শর্তের মাধ্যমে তা পেতে চাইছে। আমরা তাদের কোনো শর্তের জবাব দিইনি এবং তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো আলোচনাও হয়নি। তারা যখন অস্ত্র ফুরিয়ে যায় তখন শান্তির কথা বলে, আর অস্ত্রের জোর থাকলে আক্রমণ করে এই দ্বিচারিতা আমরা মানব না।”

তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে এমন এক শান্তি চায় যেখানে পুরো অঞ্চলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা এবং ইরানের জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!