ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News
৩ দিন স্কুল, ৩ দিন অনলাইন

নতুন যুগে প্রবেশ করছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

নতুন যুগে প্রবেশ করছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চলা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তাপ এবার আছড়ে পড়ল বাংলাদেশের শ্রেণিকক্ষে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে দেশের স্কুল-কলেজগুলোতে সপ্তাহে তিন দিন সশরীরে এবং তিন দিন অনলাইন বা ‘হাইব্রিড’ পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সমন্বয় সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ওই দিনই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পুষিয়ে নিতে সপ্তাহে মোট ছয় দিন ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এর বিন্যাস হবে ভিন্নধর্মী:

সশরীরে ক্লাস (অফলাইন): সপ্তাহে তিন দিন শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ক্লাস করবে। বাকি তিন দিন ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাড়িতে বসেই পাঠদান চলবে।

জোড়-বিজোড় পদ্ধতি: ক্লাসের দিন নির্ধারণে তারিখের জোড়-বিজোড় অথবা শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর অনুযায়ী গ্রুপ ভাগ করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকদের উপস্থিতি: অনলাইন ক্লাসের দিনগুলোতেও শিক্ষকদের সশরীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সেখান থেকেই ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠদান পরিচালনা করতে হবে।

ব্যবহারিক ক্লাস: বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ের ব্যবহারিক ক্লাসগুলো কোনোভাবেই অনলাইনে হবে না; তা সরাসরি ল্যাবে সম্পন্ন করতে হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “রোজার ছুটি এবং নানা কারণে আমরা অনেকগুলো ‘ক্লাস আওয়ার’ মিস করেছি। সেই ঘাটতি পূরণে সপ্তাহে ছয় দিন স্কুল করা প্রয়োজন। তবে বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে যাতায়াত ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করাও আমাদের দায়িত্ব। তাই আমরা হাইব্রিড মডেলটি বেছে নিয়েছি।”

মন্ত্রণালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৫ শতাংশ অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাসের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীরা যাতে ‘অসামাজিক’ হয়ে না পড়ে, সেজন্যই পুরোপুরি অনলাইনে না গিয়ে তিন দিন সশরীরে ক্লাসের বিধান রাখা হয়েছে।

দীর্ঘ ৪০ দিন পর গত রবিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও রাজধানীর নামী স্কুলগুলোতে উপস্থিতির হার ছিল অত্যন্ত কম। বিশেষ করে ধানমন্ডি, গুলশান ও উত্তরার মতো এলাকায় তেলের অভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি বের করতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে পারেনি।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা খাতুন জানান, জ্বালানি সংকটে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় অনেক অভিভাবক আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে তাদের অপারগতার কথা জানিয়েছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত মেট্রোপলিটন বা বড় শহর এলাকাগুলোতে এই অনলাইনভিত্তিক ক্লাস চালুর বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে গ্রাম ও মফস্বল পর্যায়ের স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের লভ্যতা ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামীকাল বুধবার আরও একটি জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে এই সিদ্ধান্ত শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক হবে নাকি সারা দেশে কার্যকর হবে, তা চূড়ান্ত হবে।

শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘হাইব্রিড’ পদ্ধতি সফল করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তবে যুদ্ধের এই সংকটকালীন সময়ে একে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তারা।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!