ঢাকা সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News
ব্যর্থ হচ্ছে আলোচনা

ইরানে আবারও তীব্র হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

ইরানে আবারও তীব্র হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের

ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি ছাড়াই ভেস্তে যাওয়ার পথে। এই পরিস্থিতিতে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল। নতুন এই যুদ্ধ শুরু হলে এবার আগের চেয়েও তীব্র বোমাবর্ষণ এবং ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে শুক্রবার (১৫ মে) মধ্যপ্রাচ্যের দুজন কর্মকর্তার বরাতে এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই হামলার জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এবার হামলার কৌশল হবে অনেক বেশি আগ্রাসী। মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবার ইরানের সামরিক অবকাঠামোর পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

এর অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল করার ছক আঁকা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যে পরিকল্পনাটি করা হয়েছে, তা হলো ইরানের মূল ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিশেষ কমান্ডো বাহিনী পাঠিয়ে তাদের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম জব্দ করে নিয়ে আসা।

কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ইউরেনিয়াম ছিনিয়ে আনার এই অভিযান অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। এতে বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে এবং কমান্ডোদের সহায়তার জন্য কয়েক হাজার সেনাকে সেখানে প্রস্তুত রাখতে হবে, যাদের সঙ্গে ইরানি সেনাদের সরাসরি রক্তক্ষয়ী লড়াই হতে পারে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল-১২’ এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, যুদ্ধ প্রায় অবধারিত ধরে নিয়েই তেল আবিব তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। তবে চূড়ান্ত হামলার জন্য তারা এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, “আমেরিকানরা এখন স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সমাধান আসবে না। আমরা কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের একটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।”

এর আগে চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিষয়ে তার আগের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যদি লিখিতভাবে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা আগামী ২০ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখবে, তবে তিনি যুদ্ধ এড়ানোর বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন। অথচ এর আগে ট্রাম্পের শর্ত ছিল ইরানকে চিরতরে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে।

তবে ট্রাম্পের এই নতুন প্রস্তাবের পরও মাঠপর্যায়ে আলোচনা এগোয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চীন সফরে গিয়ে ট্রাম্প বেইজিংয়ের সাথে বড় ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি করলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই পারমাণবিক সংকট নিরসনে কোনো অলৌকিক সমাধান বের করতে পারেননি। ফলে পারস্য উপসাগরজুড়ে আবারও যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!