ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

যুক্তরাষ্ট্র-জামায়াত ‍‍`নীতিগত বোঝাপড়া‍‍` দেশের জন্য হুমকি: ফরহাদ মজহারের সতর্কতা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০২:২০ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-জামায়াত ‍‍`নীতিগত বোঝাপড়া‍‍` দেশের জন্য হুমকি: ফরহাদ মজহারের সতর্কতা

বিশিষ্ট চিন্তক ও কবি ফরহাদ মজহার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে গড়ে উঠতে থাকা নীতিগত সম্পর্ককে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি বিপজ্জনক সঙ্কেত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, এই সম্পর্ক দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার ‍‍`দেশব্যাপী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট: নাগরিক সমাজের করণীয়‍‍` শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ফরহাদ মজহার তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর উদ্ধৃত করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জামায়াতের সাথে একটি কর্মী সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আরও উল্লেখযোগ্য হলো, তারা ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় এলে তাদের সম্ভাব্য শরিয়াহ নীতি বা মার্কিন স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কী ধরনের কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখানো যেতে পারে, তা নিয়েও কৌশলগত পরিকল্পনা করছে।"

তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, "এটা প্রমাণ করে যে উভয় পক্ষের মধ্যেই একটি নীতিগত সমঝোতা বা কমন গ্রাউন্ড তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র তার ভবিষ্যৎ অবস্থান আগাম চিহ্নিত করছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত সতর্কবার্তা।"

ফরহাদ মজহার আন্তর্জাতিক রাজনীতির বর্তমান প্রকৃতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, "আন্তর্জাতিক আইনের শাসন আজ কার্যত অকার্যকর। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতাদের আচরণ তার জ্বলন্ত উদাহরণ। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সাথেই ওয়াশিংটনের কোনো না কোনো যোগাযোগ রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশের সাড়ে সতেরো কোটি মানুষের নিরাপত্তা ও সার্বভৌম অধিকার রক্ষার দায়িত্ব কার ওপর পড়বে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।"

তিনি তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী মহলের দৃষ্টিভঙ্গির দ্বৈততা তুলে ধরে বলেন, "দেশে ভারতবিরোধী বক্তব্য যতটা সহজে ও প্রায়শই শোনা যায়, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ভূমিকা ও কৌশল নিয়ে সমান সোচ্চার বিতর্ক চোখে পড়ে না। এটি একটি রাজনৈতিক দ্বিচারিতা।"

ফরহাদ মজহার জোর দিয়ে বলেন, তার একটাই প্রধান আকাঙ্ক্ষা: "আমি কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত চাই না। এ দেশের সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবন, একবেলা ডাল-ভাত জোগাড় করে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারটুকু নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।"

সভার মূল আলোচ্য বিষয় অর্থাৎ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এগুলো কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং একটি বৈষম্যমূলক ও লুটেরা কাঠামোর ফল। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও জনগণ তা পাচ্ছে না, এটি সিস্টেমের ব্যর্থতা। উৎপাদন ছাড়াই বেসরকারি কোম্পানিগুলো রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে বিপুল অর্থ লুটছে। আইন ও নীতির আমূল সংস্কার ছাড়া এ অবস্থার পরিবর্তন হবে না।"

গণঅভ্যুত্থান ও রাষ্ট্র গঠনের প্রসঙ্গে তিনি সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। "এই দেশের গণঅভ্যুত্থান গড়ে উঠেছিল ছাত্র-জনতা ও সৈনিকদের ঐক্যের ভিত্তিতে। আমাদের সেনাসদস্যরাও কৃষক-শ্রমিকের সন্তান। তাদেরকে জনগণ থেকে কৃত্রিমভাবে বিচ্ছিন্ন করার কোনো প্রচেষ্টা জাতির জন্য অমঙ্গলকর," বলেছেন ফরহাদ মজহার।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) আহমেদ ফেরদৌস এবং নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেলও বক্তব্য রাখেন।

ডিজিএন

banner
Link copied!