ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে

রাজনীতির মারপ্যাঁচে এক সময় যাঁদের ঠিকানা হয়েছিল ফাঁসির সেল, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁরাই এখন জনগণের রায়ে জনপ্রতিনিধি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াতে ইসলামীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম।

নেত্রকোনা-৪: লুৎফুজ্জামান বাবরের বিশাল জয়: সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর নেত্রকোনা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আল হেলাল পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বাবর দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবন্দি থাকার পর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পেয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।

টাঙ্গাইল-২: আবদুস সালাম পিন্টুর জয়: একই মামলার আরেক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল-২ আসনে ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী হুমায়ুন কবির পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট। জনরায়ের মাধ্যমে তিনিও ফিরলেন সংসদীয় রাজনীতিতে।

রংপুর-২: এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিজয়: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম রংপুর-২ আসনে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১০ ভোট। ২০২৫ সালের ২৭ মে আপিল বিভাগ থেকে খালাস পাওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম সংসদীয় বিজয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকা এবং দণ্ড মাথায় নিয়ে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়া এই তিন নেতার বিজয় তাঁদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিগত সরকারের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর এক ধরনের জন-অনাস্থারও প্রতিফলন। তবে আদালত থেকে খালাস বা আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পাওয়ার পরই তাঁরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বৈধতা পান।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!