ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News

আলোচনা বা গবেষণার নামে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব খাটো করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

আলোচনা বা গবেষণার নামে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব খাটো করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা নিয়ে আলোচনা এবং গবেষণা হবে। তবে গবেষণার নামে এমন কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়, যা দেশের স্বাধীনতার মূল ইতিহাসকে খাটো করে বা অবমূল্যায়ন ঘটায়।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অতীত এবং ভবিষ্যতের সমন্বয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এক অনন্য দর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীত ভুলে গেলে দুই চোখই অন্ধ। অতীতকে ভুলে থাকা যেমন চলবে না, তেমনি অতীত নিয়ে অতি-চর্চা যেন ভবিষ্যতের সমৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।” তিনি অভিযোগ করেন যে, গত ১৭ বছরে ইতিহাস নিয়ে এত বেশি ‘নড়াচড়া’ হয়েছে যে তাতে মূল ইতিহাসই ঢাকা পড়ে গিয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনিবার্য ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শহীদ জিয়া কেবল একজন সামরিক কর্মকর্তাই ছিলেন না, তিনি দীর্ঘকাল ধরে স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করতেন।”

তিনি ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ ‘দৈনিক বাংলা’ এবং ১৯৭৪ সালে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধের কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ওই নিবন্ধে জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণার ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তৎকালীন সময়ে এসব তথ্যের বিপরীতে কোনো মহলেরই আপত্তি ছিল না বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করি, তবে যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিয়ে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।” তিনি বর্তমান সরকারকে ‘গণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সমাজের কেবল একটি অংশ নয়, বরং সব মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য।

তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক— ‘সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকব’। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির মতো উদ্যোগগুলো জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বক্তব্য রাখেন। ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা নেসারুল হকের দোয়ার মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!