ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য সংঘাতের আশঙ্কা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য সংঘাতের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার কারণেই তিনি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্যোগের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করছেন। তিনি বলেন, তিনি আর “শুধু শান্তির কথাই ভাবছেন না”। এ নিয়ে সোমবার দ্বীপটি ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ ইউরোপের সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধ উসকে দিতে পারে।

ন্যাটো জোটভুক্ত দেশ ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন ট্রাম্প। পথে বাধা দেওয়া দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এর জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে।

এই বিরোধ ন্যাটো জোটকে বড় ধরনের চাপে ফেলতে পারে—যে জোটটি কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা বিশ্বের নিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত ব্যয় না করা মিত্রদের সুরক্ষা না দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের কারণেই ন্যাটো আগেই চাপের মুখে ছিল।

ছবি : সংগৃহীত

এ ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কও আবার অনিশ্চয়তায় পড়েছে। গত বছর ট্রাম্পের কড়া শুল্ক আরোপের পর দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল, তা এখন ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে। ইইউ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার।

রয়টার্সের হাতে দেখা নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরেকে পাঠানো এক লিখিত বার্তায় ট্রাম্প বলেন,
“আপনার দেশ যখন সিদ্ধান্ত নিল আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেবে না—যদিও আমি ৮টিরও বেশি যুদ্ধ বন্ধ করেছি—তখন থেকে আমি আর শুধু শান্তির কথাই ভাবতে বাধ্য নই। শান্তি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, তবে এখন আমি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কী ভালো ও ন্যায্য, সেটাও ভাবতে পারি।”

ট্রাম্প নয়, ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন মাচাদো

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ট্রাম্পকে বাদ দিয়ে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয় ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে। এতে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হন। যদিও গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে মাচাদো তার পদক ট্রাম্পকে উপহার দেন, নোবেল কমিটি জানায়—এই পুরস্কার হস্তান্তর, ভাগ বা বাতিল করা যায় না।

বার্তায় ট্রাম্প আবারও অভিযোগ করেন, ডেনমার্ক রাশিয়া বা চীনের হাত থেকে গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতে অক্ষম।
তিনি লেখেন,
“তাদের আদৌ ‘মালিকানার অধিকার’ কোথা থেকে আসে?”
আরও যোগ করেন,
“আমাদের গ্রিনল্যান্ডের ওপর সম্পূর্ণ ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বিশ্ব নিরাপদ নয়।”

শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডসহ যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের ওপর ধাপে ধাপে শুল্ক বাড়ানো হবে—যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রকে ৫৭ হাজার মানুষের এই দ্বীপটি কিনতে দেওয়া হয়।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার গ্রিনল্যান্ডের মানুষেরই থাকা উচিত।
তিনি বলেন,
“আমরা চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না। আমরা সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে দৃঢ় থাকব।”

দাভোসে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা?

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্টোরে তার সূচি পরিবর্তন করে জানান, তিনি বুধবার ও বৃহস্পতিবার দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দেবেন—যেখানে ট্রাম্পও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এই সম্মেলনে ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো উপস্থিত হয়ে বুধবার মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা ট্রাম্পের। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসও বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করবেন বলে জানান। তিনি বলেন, কেউই বাণিজ্য বিরোধ চায় না।

তবে মের্ৎস সতর্ক করে বলেন,
“যদি আমাদের ওপর অযৌক্তিক শুল্ক আরোপ করা হয়, তাহলে আমরা তার জবাব দিতে সক্ষম।”

বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকে বসবেন ইইউ নেতারা। সেখানে একটি প্রস্তাব হলো—৯৩ বিলিয়ন ইউরো (১০৮ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ, যা ছয় মাসের স্থগিতাদেশ শেষে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হতে পারে।

আরেকটি বিকল্প হলো ‘অ্যান্টি-কোয়ার্শন ইনস্ট্রুমেন্ট’ (ACI), যা এখনো কখনো প্রয়োগ হয়নি। এটি ব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর সরকারি টেন্ডার, বিনিয়োগ বা ব্যাংকিং কার্যক্রমে প্রবেশ সীমিত করা যেতে পারে কিংবা সেবা খাতে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে—যেখানে ইইউর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বৃত্ত রয়েছে, বিশেষ করে ডিজিটাল সেবায়।

ইইউ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “সব পর্যায়ে” যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে ACI ব্যবহারের সম্ভাবনাও নাকচ করছে না।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মিত্র দেশগুলোর মধ্যে শান্ত ও সংযত আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ট্রাম্প ভাবছেন বলে তিনি মনে করেন না।

রাশিয়া এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও বলেছে, গ্রিনল্যান্ড দখল করতে পারলে ট্রাম্প “বিশ্ব ইতিহাসে” স্থান করে নেবেন—এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত করা কঠিন।

সূত্র : রয়টার্স

banner
Link copied!