ঢাকা শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

আমরা যুদ্ধবিরতি চাইছি না: ইরান

আন্তর্জাতি ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

আমরা যুদ্ধবিরতি চাইছি না: ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা এই মুহূর্তে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা আলোচনায় আগ্রহী নন। বরং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ‘শিক্ষা’ দিতে বদ্ধপরিকর তেহরান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সবার কণ্ঠেই শোনা গেছে যুদ্ধের কঠোর সুর।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে সরাসরি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি লিখেছেন, "আমরা অবশ্যই যুদ্ধবিরতি চাইছি না। আগ্রাসনকারীকে এমনভাবে জবাব দিতে হবে যাতে সে শিক্ষা পায় এবং ভবিষ্যতে আর কখনো আমাদের প্রিয় ইরানে হামলার কথা না ভাবতে পারে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা (ইসরায়েল) নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য যুদ্ধ, আলোচনা, যুদ্ধবিরতি এবং আবার যুদ্ধ এই চক্র চালু রাখতে চায়। আমরা এই চক্র ভেঙে দেব।"

ইরানের সামরিক শক্তির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য "অনুতপ্ত" না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ শেষ হবে না। সামরিক কমান্ডের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন গণমাধ্যম পিবিএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পুনরায় আলোচনায় বসার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই।

তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার অভিজ্ঞতা ইরানের জন্য খুবই তিক্ত। এর আগে দুই দফায় আলোচনার পরই ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।" এই অবিশ্বাসের কারণেই তেহরান কূটনৈতিক টেবিলের চেয়ে রণক্ষেত্রকেই বেছে নিতে চাইছে।

এদিকে, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ একটি নির্দিষ্ট শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি যুদ্ধবিরতি হতেই হয়, তবে তার জন্য প্রধান শর্ত হলো ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কখনো আক্রমণ করা হবে না, আন্তর্জাতিক মহলে এমন দৃঢ় নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠল। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরানের এই কঠোর মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট নয়; তারা ইসরায়েলি সামরিক সক্ষমতার ওপর কার্যকর আঘাত হানতে চায়।

সূত্র: বিবিসি।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!