ঢাকা শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ: ইসরায়েলে জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের ‍‍`অগ্নিপরীক্ষা‍‍`

আন্তর্জাতি ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ: ইসরায়েলে জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের ‍‍`অগ্নিপরীক্ষা‍‍`

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন কেবল সীমান্তের গোলাগুলিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি আঘাত হানছে দুই দেশের জনপদে। রকেট ও ড্রোন হামলার এই ভয়াবহ সময়ে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন জরুরি উদ্ধারকর্মীরা। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেইত শেমেশ এবং তেল আবিবে প্রাণঘাতী হামলা উদ্ধারকর্মীদের জন্য এক চরম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মধ্য ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে একটি ভয়াবহ রকেট হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন, যা এই দফার যুদ্ধে অন্যতম বড় প্রাণহানি। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবেও রকেট বিস্ফোরণে একজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিটি বিস্ফোরণের পরপরই দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হচ্ছে প্যারামেডিকদের।

প্যারামেডিক ওরি লাজারোভিচ জানান, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের ১২ দিনের প্রথম যুদ্ধের পর থেকে হামলার ধরনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। তেহরান এখন আগের চেয়ে অনেক বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‍‍`ক্লাস্টার মিউনিশন‍‍` বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করছে। এর ফলে আহতের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি জখমের গভীরতাও হচ্ছে অত্যন্ত ভয়াবহ।

জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ইসরায়েল জুড়ে প্রায় ২,০০০ অ্যাম্বুলেন্স এবং ৬০০টি বিশেষ যান ও মোটরসাইকেল সার্বক্ষণিক মোতায়েন রয়েছে। ওরি লাজারোভিচ বলেন, "বিস্ফোরণের শব্দ শোনার সাথে সাথেই আমরা হেলমেট ও জ্যাকেট পরে বেরিয়ে পড়ি। আমাদের বাহিনীর শতভাগ সদস্য এখন কোনো বিরতি ছাড়াই মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।"

আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইসরায়েলের এই প্রধান উদ্ধার সংস্থাটি (MDA) পরিচালনার জন্য সরকারের কাছ থেকে কোনো সরাসরি ভর্তুকি পাওয়া যায় না। ২০২৪ সালে রামলায় নির্মিত ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের বিশাল সদর দপ্তরটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত অনুদান এবং স্বাস্থ্য বীমার অর্থ থেকে করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এই অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা হয়। বর্তমানে ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে জরুরি কলের সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

সংস্থার প্রবেশপথে এখনও ঝুলছে সেই সাতজন স্বেচ্ছাসেবীর শোকাবহ পোস্টার, যারা হামাসের গত বছরের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। তাদের সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করেই এখন ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!