ফেব্রুয়ারি ৬ থেকে শুরু হতে যাওয়া মিলানো কোর্টিনা ২০২৬ উইন্টার অলিম্পিকে কেবল অ্যাথলেটদের সোনার পদকের জন্য নয়, সাইবার অপরাধীদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, র্যানসমওয়্যার গ্রুপ, রাষ্ট্র-সমর্থিত গুপ্তচর এবং হ্যাকটিভিস্টসহ সব ধরনের হ্যাকার এই ইভেন্টকে লক্ষ্য করবে। দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের টার্গেট করার জন্য তারা ভুয়া ওয়েবসাইট, কিউআর কোড, অ্যাপ এবং ফিশিংয়ের মতো প্রতারণামূলক উপায় ব্যবহার করতে পারে।
রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকাররা উচ্চপর্যায়ের অতিথি—সেলিব্রিটি, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী—কে লক্ষ্য করতে পারে, আর হ্যাকটিভিস্টরা তাদের রাজনৈতিক বা সামাজিক বার্তা প্রচারের জন্য তিন বিলিয়ন দর্শকের সুযোগ কাজে লাগাবে।
অলিম্পিকের বিশাল আকারের কারণে দর্শক, তথ্য, অর্থ ও সিস্টেম সবই সাইবার অপরাধীদের জন্য সহজ লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভুয়া টিকেট, ভুয়া স্ট্রিমিং লিঙ্ক, কর্মকর্তা বা অ্যাথলেট নকল করা প্রতারণা, এমনকি দাতব্য ও মানবিক ফান্ড ফ্রডও বেড়ে যাবে। এসব প্রতারণা মানুষের সদিচ্ছা এবং অলিম্পিকের বিশ্বব্যাপী একতার অনুভূতিকে কাজে লাগাবে।
সাইবার ঝুঁকি শুধু দর্শক নয়, অফিস এবং কর্পোরেট ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। কর্মীরা যখন মোবাইল বা কম্পিউটারে অনুষ্ঠান দেখবেন, তখন ভুয়া অ্যাপ, লিঙ্ক বা নকল পেজের মাধ্যমে তথ্য চুরি বা ফিশিং ঘটতে পারে। তাই সংস্থাগুলোকে তাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা শক্ত করতে হবে এবং প্রতারণা ও হুমকির দিকে নজর রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করান, “সবার নজর ইভেন্টের ওপর থাকায় অপরাধীরা উত্তেজনা, বিশ্বাস এবং সুযোগ কাজে লাগিয়ে সামাজিক ইভেন্টগুলোকে ব্যবহার করে।” তাই দর্শক ও সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য।
উইন্টার অলিম্পিক শুধু পদক জয়ের মঞ্চ নয়, এটি সাইবার নিরাপত্তা এবং সচেতনতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।


আপনার মতামত লিখুন :