সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার চেষ্টার শিকার আট বছর বয়সী সেই মেয়ে শিশুটি না ফেরার দেশে চলে গেছে। সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শিশুটির চাচা মো. আব্দুল আজিজ এই মর্মান্তিক সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গত রোববার সকালে সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক থেকে চন্দ্রনাথ মন্দিরে যাওয়ার দুর্গম পাহাড়ি পথে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় শিশুটিকে। প্রত্যক্ষদর্শী রাস্তা সংস্কারের শ্রমিকরা জানিয়েছেন, গলা কাটা থাকা সত্ত্বেও শিশুটি পাহাড় থেকে হেঁটে নিচে নেমে আসে। কোনো শব্দ করতে না পারলেও সে বাঁচার আকুতি নিয়ে সাহায্য চাইছিল। শ্রমিকরাই তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চমেক হাসপাতালে পাঠান।
শিশুটির পরিবার জানায়, ছোট কুমিরার মাস্টারপাড়া থেকে ইকোপার্কের সেই দুর্গম এলাকার দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। রোববার সকালে ‘খেলতে যাচ্ছি’ বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর এত অল্প সময়ে কীভাবে সে ১ হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ে পৌঁছাল, তা নিয়ে বড় রহস্য দানা বেঁধেছে। পরিবারের দাবি, পরিচিত বা অপরিচিত কেউ তাকে অপহরণ করে সেখানে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার চেষ্টা করেছিল।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে দায়ের করা অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। পুলিশ অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির রক্তাক্ত অবস্থার ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়।


আপনার মতামত লিখুন :