বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে উত্তজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ, রুপা ও জ্বালানি তেলসহ প্রধান পণ্যগুলোর দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রুপার দাম একলাফে প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। এছাড়া স্বর্ণ, অপরিশোধিত তেল ও তামার দাম কমেছে প্রায় ২ শতাংশ করে। খবর রয়টার্স।
দরপতনের মূল কারণ: বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি প্রধান কারণে বিনিয়োগকারীরা বিক্রির চাপ বাড়িয়েছেন: ১. ট্রাম্প-শি জিনপিং ফোনালাপ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে ফোনালাপের পর দুই দেশের বাণিজ্য উত্তেজনা কমার আভাস পাওয়া গেছে।
২. যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: দীর্ঘ উত্তজনা শেষে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বৈঠকে বসতে সম্মত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ কিছুটা কেটেছে। এর ফলে তেলের বাজারে ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ কমে গেছে।
৩. শক্তিশালী ডলার: মার্কিন ডলার দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছানোয় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য পণ্য কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, যা স্বর্ণ ও রুপার চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে।
পণ্যভিত্তিক বাজার পরিস্থিতি: রুপা ও স্বর্ণ: সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রুপা (১৫ শতাংশ পতন)। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দামও ২ শতাংশ কমেছে।
জ্বালানি তেল: সংঘাতের আশঙ্কা কমায় তেলের দাম ২ শতাংশ পড়ে গেছে।
তামা ও লৌহ আকরিক: চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং মজুদ বেড়ে যাওয়ায় তামার দাম কমেছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত মজুদের চাপে লৌহ আকরিকের দামও ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সয়াবিন: ব্যতিক্রম হিসেবে সয়াবিনের দাম দুই মাসের সর্বোচ্চে উঠেছে। ট্রাম্পের এক মন্তব্যের পর চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই ঊর্ধ্বগতি।
ওসিবিসি ব্যাংকের কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, বাজারে তারল্য কম থাকায় এক খাতের দরপতন দ্রুত অন্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব মূল্যবান ধাতু ছাড়াও ক্রিপ্টোকারেন্সি ও শেয়ারবাজারে দেখা যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :