ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

‍‍`৮০ ভাগ মুসলমানের দেশে বিধর্মী এমপি হবে না‍‍`—জামায়াত নেতার বিতর্কিত বক্তব্য

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

‍‍`৮০ ভাগ মুসলমানের দেশে বিধর্মী এমপি হবে না‍‍`—জামায়াত নেতার বিতর্কিত বক্তব্য

বরগুনা-২ আসনে জামায়াত নেতা মো. আফজাল হোসেনের বিতর্কিত বক্তব্যে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদের নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, “৮০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না।

বক্তব্যের সময় আফজাল হোসেন বলেন, “আপনারা কি আল-কোরআন চান, না বিদআত চান? আল-কোরআন চাইলে অবশ্যই জামায়াতে ইসলামীকে চাইতে হবে। তারা সংসদীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করবে। সংসদে উচ্চস্বরে বলবে—এই দেশ মুসলমানের দেশ। যেখানে ৮০ শতাংশ মানুষ মুসলমান, সেখানে কোনোদিন বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না, এমনকি সংবিধানও থাকতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, “কি শাসন থাকবে? আল্লাহর কোরআনের শাসন থাকবে। আজ চুরি করলে যদি হাত কেটে দেওয়া হয়, তাহলে কি এই এলাকায় আর চুরি হবে? আমরা সেই শাসন চাই।

এ ঘটনার পর সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত ও উদ্বিগ্ন মন্তব্য করছেন। অনেক ভোটার বলছেন, “ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার করা ঠিক নয়। সব নাগরিকের সমান অধিকার থাকা উচিত। এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভাজন তৈরি করে এবং ভোটারের মনে অস্বস্তি সৃষ্টি করে।

বামনা এলাকার স্থানীয় নাগরিকরা জানান, তারা আশা করেন নির্বাচনী প্রার্থীরা ন্যায্য ও সংবিধান সম্মত প্রচারণা করবেন। “যে ব্যক্তি জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে, তার বক্তব্য আমাদের ভোটের মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে,” বলেন একজন ভোটার।

বিএনপির বরগুনা-২ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সায়মন রহমান (মুন্না) বলেন, “জামায়াত প্রার্থীর জনসভায় এই ধরনের হেট স্পিচ দেওয়া নির্বাচন আচরণবিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। মঞ্চে থাকা প্রার্থী এ বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ করেননি। আমরা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা চাই।”

বরগুনা-২ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. পলাশ আহমেদ জানান, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করান, নির্বাচনী হেট স্পিচ শুধুমাত্র আইনগত সমস্যা তৈরি করে না, বরং সমাজে ধর্মীয় বিভাজন ও উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি রাখে। সাধারণ ভোটাররা আশা করেন, সব প্রার্থী সংবিধান ও নাগরিক অধিকারকে সম্মান করবে।

 

banner
Link copied!