বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের এক গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।’
আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরী আজ পরিণত হয়েছিল মিছিলের নগরীতে।
ছবি : বিএনপি মিডিয়া সেল
চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। আমি কি আপনাদের এই খাল কাটা কর্মসূচিতে পাশে পাব?’ উপস্থিত জনতা তখন হাত তুলে সমর্থন জানায়।
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে যে ইপিজেডগুলো আছে তা বিএনপির সময়ে করা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনলে আরও ইপিজেড করা হবে এবং চট্টগ্রামকে প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘দুটি বিষয়ে আমরা কঠোর থাকব একটি হলো মানুষের নিরাপত্তা এবং অন্যটি দুর্নীতি। অতীতে বিএনপি দেশ পরিচালনার সময় নিজ দলের কেউ অন্যায় করলেও ছাড় দেওয়া হয়নি। আগামীতেও দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে।’
ছবি : বিএনপি মিডিয়া সেল
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেবল সমালোচনা করে মানুষের পেট ভরবে না। আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেবে, যাতে তারা সরাসরি সরকারি সুযোগ-সুবিধা পায়।’
তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর তাঁর আগমনকে ঘিরে পলোগ্রাউন্ড মাঠ সকাল থেকেই ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি বিমানে চট্টগ্রাম পৌঁছান এবং আজ সকালে তরুণদের সঙ্গে একটি ‘পলিসি ডায়ালগ’-এ অংশ নেন। সমাবেশ শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফেরার পথে একাধিক পথসভায় অংশ নেবেন।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মহানগরীকে কঠোর নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
ডিজিএন


আপনার মতামত লিখুন :