ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২
Daily Global News

দুই দশকের নির্বাসন শেষে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

দুই দশকের নির্বাসন শেষে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান

লন্ডনে প্রায় দুই দশকের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো সঠিক হলে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী মৃদুভাষী তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার ও বন্দিদশা শেষে চিকিৎসার প্রয়োজনে ২০০৮ সালে দেশ ছাড়েন তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তার দলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর গত বছরের ডিসেম্বরে বড়দিনে বীরোচিত সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে দেশে ফেরেন তিনি।

বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন। তার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমান ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কোনো একক দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বহুমুখী বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি যা শেখ হাসিনার নীতির বিপরীত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো, পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো খাতে জোর দেওয়া এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই দফা বা ১০ বছরে সীমিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

স্ত্রী ও ব্যারিস্টার কন্যাকে নিয়ে দেশে ফেরার পর সময় কীভাবে কেটেছে, তা নিজেও বুঝে উঠতে পারেননি বলে জানান তারেক রহমান। বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা দেশে আসার পর প্রতিটি মিনিট কীভাবে কেটেছে, আমি নিজেও জানি না।”

তারেক রহমান জানান, প্রতিশোধ নয় এই মুহূর্তে দেশের প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা। তিনি বলেন, প্রতিশোধ রাজনীতি মানুষকে দেশছাড়া করে এবং এতে দেশের কোনো মঙ্গল হয় না।

শেখ হাসিনার শাসনামলে তারেক রহমান একাধিক দুর্নীতি মামলার মুখোমুখি হন এবং অনুপস্থিতিতেই কয়েকটি মামলায় দণ্ডিত হন। ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০১৮ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তিনি সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি সব মামলায় খালাস পান।

দীর্ঘ নির্বাসনে থেকে তিনি দেখেছেন, কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে বিএনপি কোণঠাসা হয়েছে, শীর্ষ নেতারা কারাবন্দি হয়েছেন এবং দলীয় কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

দেশে ফেরার পর সংযত ভাষা ও সমঝোতার রাজনীতির ওপর জোর দিচ্ছেন তারেক রহমান। ‘রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা’ ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি যা নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে বিএনপি সমর্থকদের।

সূত্র: রয়টার্স

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!