দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরা নিশ্চিত করার পর আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এদিন সকালেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে এবং বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার বর্ণাঢ্য শপথ অনুষ্ঠান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর শেরেবাংলা নগরের ‘গণভবন’কে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রীর আবাসন নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নানা জল্পনা ও অনুসন্ধান চলছিল। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সব দিক বিবেচনা করে রাজধানীর মিন্টো রোডের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা-কেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে যমুনাতে অবস্থান করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী মঙ্গলবার নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথের পর তিনি যমুনা ছেড়ে দেবেন। এরপর ভবনটি নতুন প্রধানমন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যমুনা ভবনটি সংস্কার ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহারের উপযোগী করতে ১ থেকে ২ মাস সময় লাগতে পারে। এই মধ্যবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বর্তমান ব্যক্তিগত বাসভবনেই (গুলশান) অবস্থান করতে পারেন অথবা অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থায় থাকবেন। সংস্কার কাজ শেষ হলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যমুনাতে উঠবেন। উল্লেখ্য, নিরাপত্তার খাতিরে যমুনার পাশাপাশি হেয়ার রোডের আরও দুটি বাংলো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ইউনিটের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তারেক রহমানের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি ভূ-রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে। এই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ প্রায় ১৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও মোদীর আসার বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে এই বিশাল আয়োজন নতুন বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন এক বার্তা দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :