নিজের নির্বাচনী এলাকায় এসে ভোটারদের অভাব-অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা সরাসরি শুনলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভাষানটেকের জনসভায় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের আবাসন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সামগ্রিক উন্নয়ন করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের দ্বিতীয় দিনে আজ শুক্রবার রাতে রাজধানীর ভাষানটেকের বিআরবি ময়দানে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন। তিনি ঢাকা-১৭ আসনে (গুলশান, বনানী, ক্যান্টনমেন্ট ও ভাষানটেক) ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিকেল থেকেই ভাষানটেক ও আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ মিছিল নিয়ে বিআরবি ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে মুহুর্মুহু করতালিতে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান প্রথাগত রাজনৈতিক ভাষণের বাইরে গিয়ে দর্শকসারি থেকে কয়েকজনকে মঞ্চে ডেকে নেন। তাঁদের কাছে এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো জানতে চান।
ভ্যানচালক জুয়েল মঞ্চে এসে জানান, তাঁদের প্রধান সমস্যা আবাসনের। লিলি নামের এক নারী জানান, তাঁরা পুনর্বাসন ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চান। শিক্ষার্থী হেনা আক্তার ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ভাষানটেকের অনুন্নয়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তাঁদের কথা শুনে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আপনাদেরই সন্তান, এই এলাকায় বড় হয়েছি। তাই এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যার দায় আমি নিতে চাই। সুযোগ পেলে ইনশা আল্লাহ এসব সমস্যার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করব।’
জনসভায় তারেক রহমান বিএনপির সামাজিক সুরক্ষা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি মা-বোনের হাতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব। এর পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তাঁরা সহজে ঋণ ও সার-বীজের সুবিধা পাবেন।’
তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সবাই ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে না। আমরা ক্রীড়া ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে চাই যেন পেশাদার খেলোয়াড় হয়েই একজন তরুণ তাঁর জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।’ এ সময় তিনি বেকারদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশ নতুনভাবে এগোতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ এমন পরিবর্তন চায় যেখানে নিরাপত্তা থাকবে, কর্মসংস্থান হবে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হবে।’
জনসভায় মঞ্চে তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও ছিলেন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক ও সদস্যসচিব মোস্তফা জামান। সভাপতিত্ব করেন ভাসানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদের মাহবুব।
ডিজিএন


আপনার মতামত লিখুন :