রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে জনগণের কোনো বাস্তব লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, "জনগণের লাভ তখনই হবে যখন আমরা পরিকল্পিতভাবে খাল খনন, স্বাস্থ্যসেবা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারব।"
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের মানুষের জন্য তাঁর ভিশন ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
ছবি : বিএনপি মিডিয়া সেল
দেশের তৃণমূল মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, "আমরা দেশের নারী সমাজ ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য `ফ্যামিলি কার্ড` প্রবর্তন করতে চাই। এর মাধ্যমে একজন গৃহিণী প্রতি মাসে সরকারি সহযোগিতা পাবেন। হয়তো তা দিয়ে পুরো মাস চলবে না, কিন্তু মাসে এক সপ্তাহের খরচও যদি সরকার বহন করে, তবে সেটি একটি পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি হবে।"
একইভাবে কৃষকদের জন্য `কৃষক কার্ড` চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ফেনীবাসীর উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। তবে গ্রামীণ মানুষের দোড়গোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সারা দেশে `হেলথকেয়ার` ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এর ফলে সাধারণ অসুখে মানুষকে কষ্ট করে হাসপাতালে যেতে হবে না, স্বাস্থ্যকর্মীরাই ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেবেন।
ছবি : বিএনপি মিডিয়া সেল
বেকারত্ব দূরীকরণে তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, "শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে চট্টগ্রামে যেভাবে ইপিজেড হয়েছে, ফেনী অঞ্চলেও আমরা কল-কারখানা গড়ে তুলব। এতে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান হবে।"
বিদেশে গমনেচ্ছু তরুণদের নিয়ে তারেক রহমান বলেন, "আমাদের এলাকার অনেক মানুষ বিদেশে যান। তাদের যদি দক্ষ প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে পাঠানো যায়, তবে তারা আরও বেশি বেতনে কাজ করতে পারবেন। এতে যেমন তাদের পরিবার লাভবান হবে, তেমনি দেশও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা পাবে।"
বিগত শাসনের সমালোচনা করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, "গত ১৫ বছর মানুষের কথা বলার ও ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই স্বৈরাচার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আজ পরিবর্তনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তাকে কাজে লাগাতে হবে।"
সমাবেশ শেষে তারেক রহমান ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এর আগে তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনে ফেনীতে শহীদ হওয়া পরিবার ও আহতদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজ-খবর নেন।
ডিজিএন


আপনার মতামত লিখুন :